অনলাইনে নতুন নিয়মে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক 2026।GPF Balance Check

সরকারি চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ জীবনের একমাত্র ভরসা এবং সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম হলো জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ (GPF)। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে এই ফান্ডের জমানো টাকাই একজন কর্মচারীর বার্ধক্যের লাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

তাই নিজের কষ্টের উপার্জনের এই টাকা সঠিকভাবে জমা হচ্ছে কিনা, তা নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর একাউন্টস অফিসে গিয়ে ধরণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই; ঘরে বসেই gpf balance check করা এখন মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার।

আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে খুব সহজে, কোনো ঝামেলা ছাড়াই gpf balance check 2026 এর লেটেস্ট নিয়ম মেনে আপনার জিপিএফ হিসাব দেখবেন। আপনি কি জানেন আপনার এনআইডি (NID) এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মুহূর্তেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই তথ্য বের করা সম্ভব?

এই আর্টিকেলে আমরা gpf balance check bd, মোবাইল দিয়ে চেক করার খুঁটিনাটি ধাপ, একাউন্ট স্লিপ বোঝার উপায় এবং সাধারণ সমস্যার সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আপনি যদি আপনার জিপিএফ ফান্ডের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সচেতন হন, তবে এই গাইডলাইনটি আপনার জন্যই।

Gpf Balance Check কি?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, GPF Balance Check হলো একটি ডিজিটাল প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীরা তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে কত টাকা জমা আছে, তা রিয়েল-টাইমে যাচাই করতে পারেন। সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ (সর্বনিম্ন ৫% থেকে সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত) প্রতি মাসে কর্তন করে এই ফান্ডে জমা রাখা হয়। সরকার এই জমানো টাকার ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ প্রদান করে।

পূর্বে এই হিসাব দেখার জন্য বছর শেষে ‘জিপিএফ স্লিপ’ এর জন্য অপেক্ষা করতে হতো অথবা হিসাবরক্ষণ অফিসে গিয়ে লেজার বই ঘাঁটাঘাঁটি করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগ এবং ‘অফিস অফ দ্য চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার’ (CAFO)-এর উদ্যোগে cafopfm.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সেবাটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন আপনি চাইলেই যেকোনো সময় অনলাইনে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করে আপনার মোট স্থিতি, মুনাফা এবং উত্তোলনের পরিমাণ দেখতে পারেন।

Gpf balance check করা প্রয়োজন কেনো?

অনেকেই ভাবতে পারেন, “সরকারি কোষাগারে টাকা আছে, তা তো আর হারিয়ে যাবে না। তাহলে চেক করার কী দরকার?” কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তির যুগেও অনেক সময় টেকনিক্যাল ভুলের কারণে আপনার জমার হিসাবে গড়মিল হতে পারে। নিয়মিত জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম জানা এ7বং তা প্রয়োগ করা কেন জরুরি, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: প্রতি মাসে বেতন থেকে কাটা টাকা সঠিক কোডে এবং সঠিক অংকে জিপিএফ অ্যাকাউন্টে পোস্টিং হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অনেক সময় পোস্টিং মিসিং হলে বছর শেষে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়।

২. লোন বা অগ্রিম গ্রহণের প্রস্তুতি: আপনি যদি মেয়ের বিয়ে, গৃহনির্মাণ বা চিকিৎসার জন্য জিপিএফ থেকে অগ্রিম বা লোন নিতে চান, তবে আপনার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত স্থিতি আছে কিনা তা জানা আবশ্যক। ব্যালেন্স জানা থাকলে লোনের আবেদন করা সহজ হয়।

৩. অবসরকালীন আর্থিক পরিকল্পনা: অবসরের পর আপনি একলপ্তে কত টাকা পাবেন, তার একটি স্পষ্ট ধারণা পেতে নিয়মিত ব্যালেন্স চেক করা উচিত। এটি আপনার ভবিষ্যৎ বা ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং করতে সাহায্য করে।

৪. সুদ বা মুনাফার সঠিক হিসাব: সরকার ঘোষিত সুদের হারের (বর্তমানে সাধারণত ১৩%) সাথে আপনার প্রাপ্ত মুনাফা বা সুদের পরিমাণ ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করার জন্যও gpf balance check on mobile বা ল্যাপটপের মাধ্যমে নিয়মিত স্টেটমেন্ট দেখা উচিত।

৫. মানসিক প্রশান্তি: নিজের সঞ্চিত অর্থের সঠিক হিসাব চোখের সামনে দেখলে যে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়।

Gpf Balance Check করতে কি কি কাগজপত্র লাগে?

অনলাইনে বা মোবাইলে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ হলেও, এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন হয়। তথ্যের গরমিল হলে আপনি একাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলো যা আপনাকে প্রস্তুতির জন্য সাহায্য করবে:

সতর্কতা: জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার জন্য অন্য কোনো কাগজ, যেমন- চেক বই, ব্যাংকের কাগজ বা অফিসের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরই যথেষ্ট।

অনলাইনে জিপিএফ হিসাব দেখার নিয়ম 2026 (ধাপে ধাপে বিস্তারিত)

এখন আমরা আর্টিকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে এসেছি। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আপনি কীভাবে ঘরে বসেই নির্ভুলভাবে অনলাইনে জিপিএফ হিসাব দেখার নিয়ম অনুসরণ করবেন, তা নিচে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে, ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো। প্রতিটি ধাপ মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং অনুসরণ করুন।

ধাপ ১: ব্রাউজার ওপেন এবং ওয়েবসাইট ভিজিট

প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের ক্রোম ব্রাউজার (Google Chrome) বা মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla Firefox) ওপেন করুন। ব্রাউজারের এড্রেস বারে লিখুন www.cafopfm.gov.bd এবং এন্টার বা Go বাটনে চাপ দিন। এটি আপনাকে ‘Chief Accounts and Finance Officer’ এর অফিসিয়াল পোর্টালে নিয়ে যাবে।

ধাপ ২: জিপিএফ ইনফরমেশন মেনু নির্বাচন

ওয়েবসাইটটি লোড হওয়ার পর আপনি হোমপেজে অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন। এর মধ্য থেকে “GPF Information” (জিপিএফ ইনফরমেশন) লেখা অপশনটি খুঁজে বের করুন। সাধারণত এটি পেজের মাঝখানে বা মেনু বারে থাকে। সেখানে থাকা “Click Here” বাটনে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পর আপনাকে একটি নতুন লগইন পেজে নিয়ে যাওয়া হবে।

ধাপ ৩: সঠিক তথ্য প্রদান (NID ও মোবাইল নম্বর)

এই ধাপে আপনাকে খুব সতর্কতার সাথে তথ্য পূরণ করতে হবে। এখানে তিনটি ঘর বা অপশন থাকবে:

  1. National ID (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর): এখানে আপনার এনআইডি নম্বরটি ইংরেজিতে লিখুন।
    • টিপস: আপনি পে-ফিক্সেশন করার সময় যেই এনআইডি ব্যবহার করেছিলেন ঠিক সেটিই দিন। যদি স্মার্ট কার্ড (১০ ডিজিট) দিয়ে পে-ফিক্সেশন করে থাকেন তবে ১০ ডিজিট দিন। আর যদি পুরাতন এনআইডি (১৩ বা ১৭ ডিজিট) দিয়ে থাকেন, তবে সেটিই ব্যবহার করুন। ১৩ ডিজিটের ক্ষেত্রে নম্বরের আগে জন্মসাল যোগ করে ১৭ ডিজিট করে নিতে হতে পারে।
  1. Mobile Number (মোবাইল নম্বর): পে-ফিক্সেশন করার সময় দেওয়া আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি লিখুন। মনে রাখবেন, এই নম্বরেই ভেরিফিকেশন কোড যাবে।
  2. Fiscal Year (অর্থবছর): ড্রপডাউন মেনু থেকে আপনি যেই বছরের হিসাব দেখতে চান তা সিলেক্ট করুন। (যেমন: চলতি বছরের হিসাব দেখতে 2025-2026 সিলেক্ট করুন)।

সব তথ্য পূরণ করা হলে একবার মিলিয়ে নিন এবং Submit বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: ওটিপি ভেরিফিকেশন (OTP Verification)

সাবমিট করার পর, সিস্টেম আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে সার্ভারের তথ্য মিলিয়ে দেখবে। তথ্য সঠিক হলে একটি পপ-আপ উইন্ডো আসবে যেখানে লেখা থাকবে “OTP sent to your mobile number”। আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে ৪ ডিজিটের একটি কোড যাবে।

  • ওয়েব পেজে ওটিপি লেখার ঘরে মোবাইলে পাওয়া ৪ ডিজিটের কোডটি বসান।
  • এরপর পুনরায় Submit বা OK বাটনে ক্লিক করুন।
  • দ্রষ্টব্য: নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ওটিপি আসতে ১-২ মিনিট দেরি হতে পারে। ধৈর্য ধরুন।
  • এরপর জিপিএফ স্লিপ অর্থবছর সিলেক্ট করুন

ধাপ ৫: জিপিএফ ব্যালেন্স ড্যাশবোর্ড ও বিবরণী

অভিনন্দন! ওটিপি সঠিক হলে আপনার সামনে আপনার জিপিএফ একাউন্টের বিস্তারিত তথ্য ভেসে উঠবে। এখানে আপনার নাম, এনআইডি, এবং জিপিএফ একাউন্ট নম্বরের নিচে একটি টেবিল বা ছক দেখতে পাবেন। এই ছকটি বোঝা খুবই জরুরি। আসুন জেনে নিই ছকের কোন কলামে কী থাকে:

  • Opening Balance (প্রারম্ভিক স্থিতি): ওই অর্থবছরের শুরুতে আপনার অ্যাকাউন্টে মোট কত টাকা ছিল।
  • Subscription (মাসিক জমা): ওই অর্থবছরে আপনার বেতন থেকে প্রতি মাসে কত টাকা কাটা হয়েছে এবং মোট কত জমা হয়েছে।
  • Refund (ফেরত): আপনি যদি আগে কোনো লোন নিয়ে থাকেন এবং তা কিস্তিতে পরিশোধ করে থাকেন, তবে সেই পরিশোধিত টাকা এখানে দেখাবে। (এটি কিন্তু সরকার আপনাকে ফেরত দিচ্ছে না, আপনি লোন শোধ করছেন)।
  • Profit (মুনাফা/সুদ): আপনার জমানো টাকার ওপর সরকার ওই বছরে কত টাকা সুদ দিয়েছে।
  • Withdrawal (উত্তোলন): ওই অর্থবছরে আপনি জিপিএফ থেকে কোনো টাকা তুলেছেন কিনা। তুললে তা এখানে বিয়োগ হবে।
  • Closing Balance (সমাপনী স্থিতি): সব যোগ-বিয়োগ শেষে বছর শেষে আপনার মোট কত টাকা জমা আছে। মূলত এটিই আপনার বর্তমান GPF Balance Check এর ফলাফল।
  • এরপরে আপনারা একটি পিডিএফ দেখতে পাবেন আপনার gpf ব্যালেন্সের বিস্তারিত।।
  • সেখানে উপরে কর্নারে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে আপনার gpf balance এর বিস্তারিত পিডিএফ ডাউনলোড করুন

মোবাইলের মাধ্যমে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম

অনেকেই কম্পিউটারের চেয়ে মোবাইল ব্যবহারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। মোবাইলের মাধ্যমে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম কম্পিউটারের মতোই, তবে ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য কিছু বিশেষ টিপস নিচে দেওয়া হলো:

১. ডেস্কটপ মোড (Desktop Mode): মোবাইলের Google Chrome ব্রাউজারে প্রবেশ করে উপরের ডানদিকের কোণায় তিনটি ডট (Menu) আইকনে ট্যাপ করুন। সেখান থেকে “Desktop Site” বক্সে টিক চিহ্ন দিন। এতে ওয়েবসাইটটি কম্পিউটারের মতো বড় স্ক্রিনে দেখা যাবে এবং কাজ করতে সুবিধা হবে।

২. জুম ইন/আউট: মোবাইলের স্ক্রিন ছোট হওয়ায় লেখাগুলো ছোট দেখাতে পারে। আঙুল দিয়ে জুম করে (Pinch to Zoom) এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরের ঘরগুলো বড় করে নিন যাতে টাইপ করতে ভুল না হয়।

৩. ল্যান্ডস্কেপ মোড: ফোনটি লম্বালম্বি না ধরে আড়াআড়ি (Landscape) ধরলে টেবিল বা ছকটি পুরোটা একসাথে দেখতে সুবিধা হবে।

মোবাইল দিয়ে চেক করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি অফিসে কাজের ফাঁকে, বাসে যাতায়াতের সময় বা ছুটির দিনে বাড়িতে বসেই gpf balance check on mobile সম্পন্ন করতে পারেন।

GPF Account Slip: জিপিএফ একাউন্ট স্লিপ ও স্টেটমেন্ট বের করার নিয়ম

শুধুমাত্র ব্যালেন্স জানাই যথেষ্ট নয়, অনেক সময় দাপ্তরিক কাজে বা প্রমাণের জন্য GPF Account Slip বা স্টেটমেন্টের হার্ডকপি প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে লোন প্রসেসিং বা পেনশনের সময় এটি বাধ্যতামূলক।

কিভাবে ডাউনলোড ও প্রিন্ট করবেন:

  • ব্যালেন্স দেখার পেজটির উপরের ডান পাশে খেয়াল করুন, একটি “Print” আইকন বা বাটন রয়েছে।
  • প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করলে একটি নতুন উইন্ডো ওপেন হবে যেখানে আপনার পুরো স্টেটমেন্টটি একটি অফিশিয়াল ফরম্যাটে দেখা যাবে।
  • আপনার কম্পিউটারের সাথে প্রিন্টার কানেক্ট করা থাকলে সরাসরি প্রিন্ট করে নিন।
  • আর যদি আপনি এটি সংরক্ষণ করতে চান, তবে প্রিন্ট ডেস্টিনেশন (Destination) অপশন থেকে “Save as PDF” সিলেক্ট করুন এবং সেভ বাটনে ক্লিক করুন। ফাইলটি আপনার মেমোরিতে পিডিএফ আকারে জমা হবে।

বৈধতা: এই অনলাইন কপিটিতে একটি কিউআর কোড (QR Code) থাকে যা এর সত্যতা প্রমাণ করে। তাই এই স্লিপে কোনো হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। এটি শতভাগ অফিশিয়াল এবং গ্রহণযোগ্য।

জিপিএফ ব্যালেন্স ঠিক আছে আছে কিনা চেক করার নিয়ম

মাঝেমধ্যে সার্ভার বা পোস্টিং ভুলের কারণে অনলাইনে প্রদর্শিত তথ্যে ভুল থাকতে পারে। তাই অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে জিপিএফ ব্যালেন্স ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা উচিত।

জিপিএফ ব্যালেন্স কিভাবে যাচাই করবেন?

১. মাসিক কর্তন মেলান: আপনার প্রতি মাসের পে-স্লিপ বা স্যালারি শিটে জিপিএফ বাবদ যে টাকা কাটা হয়েছে, তার যোগফল অনলাইনের “Subscription” কলামের মোট টাকার সাথে হুবহু মিলছে কিনা দেখুন।

২. লোন রিকভারি: লোন শোধ করে থাকলে “Refund” কলামে তা আপডেট হয়েছে কিনা দেখুন।

৩. ওপেনিং ব্যালেন্স: গত বছরের যেটা “Closing Balance” ছিল, এই বছরের শুরুতে সেটা “Opening Balance” হিসেবে এসেছে কিনা তা খেয়াল করুন।

যদি কোনো গরমিল পান, তবে কালক্ষেপণ না করে আপনার দপ্তরের হিসাব শাখা অথবা সংশ্লিষ্ট চিফ একাউন্টস ফিন্যান্স অফিসারের (CAFO) কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সংশোধনের আবেদন করুন।

জিপিএফ ব্যালেন্স ক্যালকুলেটর ও সুদের হার

একজন সচেতন চাকরিজীবী হিসেবে আপনার জানা উচিত আপনার টাকা কীভাবে বাড়ছে। বর্তমানে (২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রেক্ষাপটে) জিপিএফ-এর সুদের হার সাধারণত ১১% থেকে ১৩% এর মধ্যে ওঠানামা করে (সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য)।

জিপিএফ ব্যালেন্স ক্যালকুলেটর (সহজ সূত্র):

যদিও সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে, তবুও ম্যানুয়ালি মিলিয়ে দেখার সূত্র হলো:

সরকার চক্রবৃদ্ধি হারে (Compound Interest) সুদ প্রদান করে। অর্থাৎ, বছর শেষে আপনার মুনাফা আসলের সাথে যোগ হয়ে যায় এবং পরের বছর সেই বর্ধিত আসলের ওপর আবার সুদ গণনা করা হয়। একারণেই জিপিএফ দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক।

অনলাইনে GPF Balance Check নিয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

জিপিএফ বা General Provident Fund হলো সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক সঞ্চয় ব্যবস্থা, যেখানে চাকরির সময় মাসে মাসে নির্দিষ্ট টাকা কেটে জমা রাখা হয়। চাকরি শেষে এই সঞ্চিত অর্থ ও লাভ কর্মচারীকে প্রদান করা হয়। এটি নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের একটি সরকারি স্কিম।

অনলাইনে জিপিএফ ব্যালেন্স দেখতে এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে সরকারি পোর্টালে লগইন করতে হয়। লগইন সম্পন্ন হলে ব্যালেন্স, সাবস্ক্রিপশন, লাভ ও উইথড্রয়াল সব তথ্য এক পেইজে দেখা যায়

প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যালেন্স চেক করার জন্য অনলাইন GPF পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। নিজের NID, রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ও জন্মতারিখ সঠিকভাবে দিলে আপনার অ্যাকাউন্টের বর্তমান ব্যালেন্স ও হিসাব দেখাবে।

বাংলাদেশে জিপিএফ-এর সুদের হার সরকার বছরে একবার সংশোধন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি সাধারণত ১২ শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করে, তবে প্রতি অর্থবছরে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।

জিপিএফ হিসাব করা হয় মাসিক সাবস্ক্রিপশন, পূর্ববর্তী বছরের ওপেনিং ব্যালেন্স, সরকারের ঘোষিত সুদের হার এবং বছরের মধ্যে কোনো উত্তোলন থাকলে তা বাদ দিয়ে। সাধারণত হিসাবটি হয়: (Opening Balance + Subscription + Profit + Refund) – Withdrawal = Closing Balance।